দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা বিটিটিএফ ২০২৬-এর উদ্বোধন
দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসি।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সংযোগ জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মেলায় পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে রয়েছে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেট, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এবং টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাত আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে নতুন এক যুগে প্রবেশ করছে। বিটিটিএফের মতো প্ল্যাটফর্ম দেশের পর্যটন খাতকে বিকশিত ও বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের চর্চা বাড়াতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। দেশের পর্যটন খাতকে সামনে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “গত ১৩ বার সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই মেলা দেশীয় পর্যটনকে বিশ্বের দরবারে যথাযথ ও যুগোপযোগীভাবে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বিটিটিএফের ১৪তম আসরে ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থা অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ অন্যান্য দেশ।
এবারের মেলায় ২০০টিরও বেশি বুথ ও স্টল, ২২০টির বেশি এক্সিবিটর, ২৫০ জনের বেশি কোয়ালিফায়েড বায়ার এবং ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি ট্রেড ভিজিটরের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ৬০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগমের আশা করছেন আয়োজকেরা। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে ২০০টিরও বেশি এয়ারলাইনস, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশ নিচ্ছে। ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ বছর মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এয়ারলাইনস পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এ ছাড়া প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, জিডিএস পার্টনার সেবার, পিআর পার্টনার ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলজি পার্টনার এম৩৬০আইসিটি, ট্রান্সপোর্ট পার্টনার কনভয় সার্ভিস, ডিজিটাল পার্টনার মায়েস্ট্রো, অডিও-ভিজ্যুয়াল পার্টনার প্যানোরামা পিসি ক্রিয়েটরস ও রুচি এবং ভেন্যু পার্টনার বিসিএফসিসি।
মেলাটি সফলভাবে আয়োজনে সহযোগিতা করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই।
বিটিটিএফ ২০২৬ আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরা, দেশীয় পর্যটনের বিকাশ এবং বৈশ্বিক অংশীজনদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে টোয়াব। ধারাবাহিক ১৩টি সফল আয়োজনের পর এবারের ১৪তম আসরের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন মেলা হিসেবে বিটিটিএফের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
