পারমাণবিক যুদ্ধেও নিরাপদ থাকা যাবে যে দেশে
বিশ্বে এমন খুব কম দেশ আছে যেখানে প্রায় প্রতিটি নাগরিকের জন্য জরুরি আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেই বিরল উদাহরণগুলোর একটি হলো ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড। দেশটিতে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার বা আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টার ব্যবস্থা রয়েছে, যা যুদ্ধ, পারমাণবিক হামলা কিংবা বড় কোনো দুর্যোগের সময় নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের অনেক দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। যদিও সুইজারল্যান্ড সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি, তবুও যুদ্ধের ভয়াবহতা দেশটির নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তোলে। পরে শীতল যুদ্ধের সময় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা আরও বাড়ে।
সুইজারল্যান্ডের বাঙ্কারগুলো শুধু ছোট গর্ত বা সামান্য আশ্রয়কেন্দ্র নয়। অনেক বাঙ্কারই সম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ ছোট শহরের মতো। এগুলো শক্ত কংক্রিট দিয়ে তৈরি এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণের ধাক্কাও সহ্য করতে পারে। বাঙ্কারগুলোর ভেতরে সাধারণত থাকে—
কিছু বড় বাঙ্কারে এমনকি হাসপাতাল, রান্নাঘর, যোগাযোগব্যবস্থা এবং কমান্ড সেন্টারও রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের একটি বিশেষ বিষয় হলো—অনেক বাড়ির নিচেও ছোট বাঙ্কার তৈরি করা হয়। নতুন বাড়ি নির্মাণের সময় বাঙ্কার বানানো আইনত বাধ্যতামূলক ছিল অনেক বছর ধরে। যদি কেউ বাঙ্কার তৈরি না করে, তাহলে তাকে সরকারকে অতিরিক্ত কর দিতে হতো। এই কারণে অনেক বাসাবাড়ির বেজমেন্টই আসলে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
