মালিতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় ৫০ সেনা নিহত

বাসস
প্রকাশিত: ১১:০৮ পিএম, রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ | ৭২

মালির উত্তরাঞ্চলের কৌশলগত শহর আনেফিস ত্যাগ করার সময়, তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় অন্তত ৫০ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আজ রোববার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তারা আরো জানায়, আনেফিস থেকে সেনাবাহিনীর বহরটি শনিবার রওনা হওয়ার সময় এ হামলা চালানো হয়। এর আগে, কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছিল।

জুলাইয়ের শুরুতে তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এফএলএ ও আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট গ্রুপ ফর দ্য সাপোর্ট অব ইসলাম অ্যান্ড মুসলিমসের (জেএনআইএম) যোদ্ধারা অল্প সময়ের জন্য শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। একই সঙ্গে তারা মালি সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার আফ্রিকা কোরের ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটি ঘিরে ফেলে। যদিও জেএনআইএম ও এফএলএ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

ক্ষমতাসীন জান্তার ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, এ হামলায় প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত ভারী ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক সেনা নিহত ও অন্তত ২৪ জন বন্দি হয়েছেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির সেনাবাহিনীর ওপর এটি সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণঘাতী হামলা।

মালির সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, কয়েকজন সদস্যকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা খতিয়ে দেখছি, কী কারণে আমাদের সদস্যরা এতটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছিলেন।

এছাড়া, একাধিক সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী রুশ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা হামলার আগেই তাদের গন্তব্য গাও শহরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফলে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

গাও অঞ্চলের এক কমিউনিটি নেতা বলেন, কোনো রুশ সদস্য নিহত হননি। নিহতরা সবাই মালি সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য।

২০২০ ও ২০২১ সালে টানা দুই সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মালিতে সামরিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা জিহাদি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী অস্থিরতার পর নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সামরিক সরকার।