ইরানকে নিশ্চিহ্ন করব, নাকি চুক্তি—বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪৭

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে তাকে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। দেশটির সঙ্গে সমঝোতার পথে যাবেন, নাকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করার চেষ্টা করবেন—এই দুই পথের একটিকে বেছে নেয়ার কথা বলেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবারের সাধারণ বিতর্ক চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

ইরান প্রসঙ্গে দীর্ঘ বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে কি এমন একটি চুক্তি হবে, যার মাধ্যমে তারা আবার নিজেদের গড়ে তুলবে এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বড় একটি দেশ তৈরি করবে?’

এরপর তিনি বিকল্প পথ হিসেবে আরো কঠোর সামরিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, ‘নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত নিশ্চিহ্ন করে দেব, যাতে তারা আর মানুষ ও দেশকে হত্যা ও ধ্বংস করার সুযোগ না পায়? আমি কি তাদের এমনভাবে নরকে ঠেলে দেব, যেখান থেকে বেঁচে থাকার বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আবার বড় হয়ে ওঠার কোনো আশা থাকবে না?’

তবে একই ভাষণে ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি চুক্তি হতে পারে বলে তার ধারণা। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি নির্বাচনের ঠিক পরই আমরা একটি চুক্তি করব। কারণ তাদের জন্য চুক্তি না করার কোনো অর্থ হয় না।’

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া হবে না বলেও আবারো হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। দেশটিকে তিনি একসময় মধ্যপ্রাচ্যের ‘দাদাগিরি করা শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেই অবস্থান এখন আর নেই।

একই সঙ্গে ইরানের ওপর পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরোপে বিশ্বের অন্য দেশগুলোকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরানের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে হবে।

ইরান নিয়ে বক্তব্যের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গেও কথা বলেন ট্রাম্প। যুদ্ধ বন্ধে মস্কো ও কিয়েভের নেতাদের সঙ্গে তার প্রশাসন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি এবং আমরা এটির সমাধান করব। এটা হবেই। আমার ধারণা, মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও দ্রুত এটি হতে পারে।’

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে আসছেন ট্রাম্প। তবে এখনো যুদ্ধ বন্ধে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

ইরান ইস্যু এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই নতুন করে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গেছেন।