গাজা ও পশ্চিম তীরে নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের ঘোষণা ইসরায়েলি মন্ত্রীদের
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া তীব্র করেছে ইসরায়েলের জোট সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় গাজা উপত্যকায় তিনটি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও অর্থমন্ত্রী। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারের তথ্যমতে, দেশটি বর্তমানে গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির (যেখানে ৫৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণের কথা ছিল) স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, উত্তর গাজায় তিনটি ‘নাহাল’ ফাঁড়ি বা আউটপোস্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত এ ধরনের সামরিক বসতিগুলোই পরবর্তীতে বেসামরিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পথ সুগম করে।
সেইসঙ্গে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক অভিবাসনের মাধ্যমে জাতিগত নিধনের পক্ষেও মত দিয়েছেন ইসরায়েল কাটজ। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও জনবসতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দেখে তার ‘ভালো লেগেছে’ বলেও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন কয়েক ডজন বসতি নির্মাণের জন্য ১৩০ কোটি শেকেল (প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বা ৩১৮ মিলিয়ন পাউন্ড) বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। গত মাসে মন্ত্রিসভায় এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলেও মার্কিন বিরোধিতার ভয়ে তা এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল। ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা।
ভয়াবহ বিষয় হলো, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ এই উগ্রবাদী আউটপোস্টের বাসিন্দাদের তাদের কাজের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং তাদের সামরিক বাহিনীর "নিরাপত্তা অংশীদার" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান জানান, অন্তত সাতটি বসতিতে বুলডোজার দিয়ে জমি প্রস্তুতের কাজ চলছে যাতে ভোটের আগেই সেখানে লোক বসানো যায়। তার মতে, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে তড়িঘড়ি করে ফিলিস্তিনি ভূমিতে নতুন বসতি তৈরি করতে চাইছে।
