টাঙ্গাইলে ব্র্যাকের ঢাকা বিভাগীয় বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৩ পিএম, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ | ৭০

টাঙ্গাইলে ব্র্যাকের ঢাকা বিভাগীয় বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের হল রুমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন।

এসময় পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন ব্র্যাকের চিফ ফাইন্যান্স অফিসার সাব্বির আহমেদ।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) সেলিম মিঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), আদিবুল ইসলাম , সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির প্রধান আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান প্রমুখ।

এসময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 

সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালে ঢাকা বিভাগের প্রতি ৮ জন বাসিন্দার মধ্যে ১ জনের কাছে ব্র্যাকের সেবা পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ ও সঙ্কট মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (ওয়াশ), জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ নানাক্ষেত্রে এসব সহায়তা দেওয়া হয়েছে। 

২০২৫ সালে ঢাকা বিভাগে ১৭ হাজার ৯০৯টি অতি-দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৭ হাজার ৭২৫টি পরিবার সফলভাবে অতিদারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন ৪ হাজার ১১৬ জন। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে আর্থিক সেবার আওতায় এসেছেন ঢাকা বিভাগের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ঋণগ্রহীতার মাঝে প্রায় ৮৬ শতাংশই নারী। 

স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক সেবা এবং সচেতনতামূলক বার্তার আওতায় এসেছেন ৩ লাখ ৮৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই বিভাগেই ১ লাখের বেশি গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা দেওয়া হয়েছে, এবং ২৫ হাজার ৪৭৫টি নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতে সহায়তা করেছে ব্র্যাক। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার আওতায় এসেছেন ৯০ হাজার ২৮৮ জন। একইভাবে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহনশীলতা, নারী ও পুরুষের সমঅধিকারসহ নানা কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়। 

এছাড়াও এ জেলার ৩ লাখ মানুষ ব্র্যাকের আর্থিক সেবা ও সচেতনতামূলক সহায়তা পেয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক সেবা এবং সচেতনতামূলক বার্তার আওতায় এসেছেন ১৮ হাজার ৭৬৮জন। এছাড়াও, ৭০ হাজারও অধিক মানুষ অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতা, মনোসামাজিক সহায়তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন সেবা পেয়েছেন।