জরুরি বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (পিএমএসএ) তাদের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) সক্রিয় করে এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার প্রটোকল চালু করে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় টহলে থাকা পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ পিএনএস ‘হুনাইন’-কে দ্রুত সহায়তার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
পিএনএস ‘হুনাইন’ তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে পুরো অভিযান পরিচালনা করে। নৌবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল জাহাজে পৌঁছে আহত বা অসুস্থ নাবিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে, আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।
উদ্ধার করা নাবিকদের করাচিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হবে। পরবর্তী সময়ে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের বিবৃতিতে জানায়, দেশের উপকূল থেকে দূরবর্তী সমুদ্রসীমায় এ ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদান তাদের দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতির অংশ। সামুদ্রিক যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রথম সাড়া প্রদানকারী হিসেবে কাজ করাই তাদের লক্ষ্য।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গত মার্চে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সুরক্ষায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছিল পাকিস্তান। নিজেদের সীমানা রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো দেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে মানবিক কর্মকাণ্ডে পাকিস্তান নৌবাহিনী সব সময় তৎপর থাকে।
এদিকে সফল এ উদ্ধার অভিযানের জন্য পাকিস্তান নৌবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রুত সাড়া দেয়া, পেশাদারত্ব ও মানবিক মনোভাব প্রদর্শনের জন্য নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রশংসা করেছেন তিনি। শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘বিপৎসংকেত পাওয়ার পরপরই পিএনএস ‘হুনাইন’ কার্যকরভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, যা নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও প্রস্তুতির প্রতিফলন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিরাপদে উদ্ধার করা আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। —খবর ডন
