আলোচনায় দেরির জন্য মূল্য দিতে হবে ইরানকে, পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আলোচনায় পৌঁছাতে তেহরান অনেক বেশি সময় নিয়েছে এবং এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে। খবর রয়টার্স।
স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর আগে হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এ আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ ও সিরিক বন্দরে মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরো কোনো মার্কিন হামলা হলে জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা পুনর্মূল্যায়ন করবে। যেকোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য ন্যূনতম স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন বলেন তিনি।
অন্যদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমেও যায়নি বলে জানা গেছে। রয়টার্সকে এক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শের পর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা বুধবার তেহরানে পৌঁছেছেন।
