এভিয়েশন পলিসি কনক্লেভ
এভিয়েশন খাতের অংশীজনদের জন্য বাধা হয়ে থাকা ৪২ বছরের নিয়ম পরিবর্তন করবে সরকার: বিমানমন্ত্রী
এভিয়েশন খাতে ৪২ বছর ধরে অংশীজনদের জন্য বাধা হয়ে থাকা নিয়মগুলো পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, দেশের আয়না হলো বিমানবন্দর। আমরা যে অবস্থার বিমানবন্দর পেয়েছি, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিমানবন্দরের কার্গো ও যাত্রীসেবা আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারের দ্য প্রেস্টিজে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠানে দেশের এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা ও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকার দেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ অগ্রযাত্রায় এভিয়েশন খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি এয়ার এশিয়া পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কীভাবে প্রতিষ্ঠানটি ২৫ মিনিটের মধ্যে একটি উড়োজাহাজ প্রস্তুত করে এবং কম খরচে টিকিটের ব্যবস্থা করে, তা আমি দেখেছি। এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশেও বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উড়োজাহাজে জটিলতা দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ভারত বা সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হয়। এরপর আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়। তাই অংশীজনদের জন্য সহায়ক করে বেসামরিক বিমান চলাচল-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হবে।
এয়ারলাইনসে বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিধিমালা প্রণয়নে অংশীজনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি উড়োজাহাজের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছে। যাত্রী হয়রানির নানা অভিযোগও ছিল। তবে এসব সমস্যা কমাতে কাজ করা হচ্ছে। আগে কনভেয়ার বেল্টে ছেঁড়া বেল্ট পাওয়া যেত এবং লাগেজ পেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগত। এখন এ পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরের কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীদের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে কার্গোর দরজাও খোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে একদিকে যাত্রী নামার সময় অন্যদিকে লাগেজ নামানো যায়। এর ফলে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ বেল্টে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। বর্তমানে লাগেজ পেতে ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে না।
আগের সরকার বাতিল করেছিল এমন কিছু উদ্যোগ নতুন করে শুরু করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেগুলো পুনর্বহাল করেছেন। এসব উদ্যোগ বাতিলের কারণে দেশের প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। জাপানি কনসোর্টিয়াম-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এখানে এটা নেই, ওটা নেই, রানওয়ে নেই, কেন উড়োজাহাজ কিনছেন, টাকার অপচয়! এ কথাগুলোর মধ্যে কিন্তু সত্যতা আছে। আমরা বসে সেগুলো ঠিক করব। কিন্তু আমাদের ইতিবাচক ভাবতে হবে। সবকিছুই করা সম্ভব। এখন এ বিমানবন্দর থেকে আমরা ১২ মিলিয়ন যাত্রী যাতায়াত করাতে পারি। থার্ড টার্মিনাল যখন পুরোপুরি চালু হতে যাচ্ছে, তখন ২৪ মিলিয়ন বা তারও বেশি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। তখন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোও আসবে।
তিনি জানান, আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাজেট এয়ারক্রাফট নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা কক্সবাজারে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করার শেষ পর্যায়ে আছি। পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করার জন্য আমরা এরই মধ্যে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়েছি। পিপিপি মডেল, যৌথ উদ্যোগ মডেল এবং যেগুলো আমরা চালাতে পারছি না, সেগুলো বেসরকারি খাতকে দিয়ে সচল করা হবে।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আমরা অনেক উদ্যোগ হাতে নিয়েছি, তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজন। আপনারা অন্যান্য দেশের উদাহরণ দেখতে পারেন, যেখানে অল্প কয়েকটি প্লেন থেকে শুরু করে আজ বিশাল বহর হয়েছে, কারণ সেখানে এভিয়েশন খাত নিয়ে অহেতুক টানাটানি করা হয়নি। আমাদের এখানে সংশয়-সন্দেহের প্রবণতা বেশি।
আমি ধন্যবাদ জানাই ইউএস-বাংলাকে, তারা ২১টি বোয়িং নিয়ে এসেছে, সামনে হয়তো আরও কিনবে। আমাদের জাতীয় বিমান সংস্থাকও আমরা শক্তিশালী করতে চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান পর্যটন ও বিমান পরিবহন খাত একটি উচ্চতর মাত্রায় উঠুক।
সুত্র:বণিক বার্তা
