প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার রেডি খাতায় জমা নেওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | ৫৮

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা পৌর শহর এলেঙ্গায় স্থাপিত সরকারি শামসুল হক কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থদের আইসিটির প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার কম্পিউটারে টাইপ রেডি করা স্পাইরাল খাতার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অত্র কলেজের শিক্ষক আমির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ পরীক্ষার জন্য প্র্যাক্টিক্যাল খাতা ৫০ টাকা করে ছাত্ররা কিনছে অত্র কলেজের শিক্ষক আমির হোসেন এবং কলেজের মেইন গেটের পাশে কয়েকটি দোকানে থেকে। এক প্র্যাক্টিক্যাল রেডি খাতা দিয়ে টানা কয়েক বছর ধরে চলছে বিক্রির বাণিজ্য। ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত একই প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার কম্পিউটারে টাইপ রেডি খাতা বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কলেজ শিক্ষক আমির হোসেন। ২৪৫ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে বর্তমানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৩’হাজার।

এছাড়াও কলেজ  শিক্ষক  নিরঞ্জন কুমার সরকার ও কৃষি শিক্ষক মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তুলেছেন ছাত্র ছাত্রীরা।  নিরঞ্জন কুমার সরকার গনিত,পদার্থ, রসায়ন  তিনটি খাতা থেকে ৫০ টাকা,১০০ টাকা এবং ১৫০ টাকা করে সব ছাত্র ছাত্রীদের কাছ টাকা নিচ্ছেন। প্রতিটি  খাতার উপরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম সহ রেডি খাতা জমা নিচ্ছেন এ শিক্ষকগন।

এর আগে সীমাহীন দূর্নীতির প্রতিবাদ আর কলেজ সম্পদ রক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন, দূর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে কলেজের ভূমি দখল মুক্তকরণ আহ্বায়ক কমিটিসহ একাধিক শিক্ষক দফায় দফায় অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে একাধিক শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কলেজের পরীক্ষার্থদের হাতে প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার কম্পিউটারে টাইপ রেডি স্পাইরাল খাতা তার উপরে লেখা সরকারি শামসুল হক কলেজে নাম  এবং খাতায় নাম,রোল নম্বর,সেশন এর জায়গায় ফুলেট দিয়ে মুছা তার উপরে বর্তমান পরীক্ষার্থদের নামসহ রোল নম্বর সেশন। পুরোনো খাতা দিয়ে চলছে প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার। বিজ্ঞান বিভাগেও গিয়ে দেখা যায় একই চিত্র।ছাত্রছাত্রীরা টাকা দিয়ে নিরাঞ্জন কুমার সরকারের কাছ থেকে খাতা কিনে সেখানেই জমা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রছাত্রীরা জানান,আইসিটির প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার জন্য কম্পিউটারে টাইপ রেডি খাতা আমাদের আমির হোসেন স্যারে কাছ থেকে ৫০ টাকা করে কিনে নিয়ে স্যারের কাছে খাতা জমা দিয়েছি। এছাড়া বাহিরে সাধনের দোকান থেকে ৫০ টাকা করে এই খাতা কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি খাতার উপরে কলেজের নামসহ গতবছরের পরীক্ষার্থীর নাম লেখা আছে সে নাম গুলো মুছে আবার আমাদের নাম রোল লিখে নিয়েছি। আর গনিত, রসায়ন,পদার্থ ৫০ টাকা  থেকে ১৫০ টাকা করে তিন ধরণের খাতা কিনে স্যারের নিকট জমা দিয়েছি।

সাধন স্টোরে মালিক  সাধন বলেন, এই মূর্হূতে আমার কাছে আইসিটি প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার খাতা নাই শেষ হয়ে গেছে বিকেলে আমির হোসেন স্যার খাতা পাঠাবে তারপর পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে শিক্ষক আমির হোসেন প্রথমে প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার রেডি খাতার কথা অস্বীকার করলেও পরে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন কিছু খাতা গতবছরের ছিল সেগুলো হয়তো ছাত্ররা হাতে পেয়েছে। 

এ বিষয়ে গনিত শিক্ষক নিরঞ্জন কুমার সরকার বলেন, যে অনেক কলেজের তো এ ধরণের খাতা তৈরি করে পরীক্ষা নিচ্ছে। তাই আমি ঢাকা থেকে নিজে কলেজের নামে খাতা তৈরি করে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নিচ্ছে। একাজ করা যাবে না এটা আমার জানা ছিল  না আমার ভুল হয়েছে ভবিষ্যৎতে আর করব না।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর বলেন, প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার রেডি খাতার বিষয়টি আমার জানা নাই তবে যদি কোন শিক্ষক এ কাজ করে থাকে তাহলে খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা মোসা: লায়লা আঞ্জুমান বানু বলেন, এধরণের কোন তথ্য আমার জানা নাই।   খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম তালুকদার কর্তৃক স্বাধীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে এটি স্বকৃতি লাভ করে। আওয়ামী মুসলিমলীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শামসুল হক এর নামে নামাঙ্কিত করা হয়। কলেজটি ১৯৮৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১ মে ১৯৮৪ তারিখে কলেজটিকে প্রথম এমপিওভুক্ত করা হয়। সরকারি শামসুল হক কলেজ ১৯৭২ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর ২০১৮ সালে ৮ আগস্ট সরকারিকরণ হয়। এটি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক ও ¯œাতক পর্যায়ের কলেজ।