ত্রয়োদশ সংসদ: প্রথম অধিবেশনেই হট্টগোল, প্ল্যাকার্ড হাতে শ্লোগান-মিছিল

আলোকিতপ্রজন্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৩৪ পিএম, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ | ৬১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আজ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দিতে অনুরোধ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। এদিন তার ভাষণ দেয়া নিয়ে আগে থেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বিরোধীদলীয় নেতারা। সংসদেও দেখা গেল সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনই রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন, প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান, মিছিল এমনকি ওয়াকআউট দেখল পুরো জাতি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দিতে আহ্বান জানান স্পিকার। এ সময়ই তাকে আহ্বানের প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় সদস্যরা। এর মধ্যেই বিউগলের সুর বেজে ওঠে। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। সে সময়টায় বিক্ষোভ শুরু করেন বিরোধী সদস্যরা। এদিকে রাষ্ট্রপতি স্পিকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনের সামনে এসে দাঁড়ান। তখন জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে এবং অধিবেশন কক্ষের মনিটরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হয়। সরকার দলীয় সদস্যরা দাড়িয়ে শ্রদ্ধা জানালেও বিরোধী জোটের সদস্যরা বসে পড়েন। পরে জাতীয় সংগীতের মাঝ পর্যায়ে তারা আবারো দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে নির্ধারিত আসনে বসেন রাষ্ট্রপতি। অন্যদিকে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা। তারা রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে ‘খুনি’, ‘কিলার’, ‘ফ্যাসিস্ট’, ‘গেট আউট’ বলতে থাকেন। তাদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বারবার অনুরোধ জানান স্পিকার। এদিকে ভাষণ দিতে ডায়াসের সামনে এসে দাঁড়ান রাষ্ট্রপতি। তিনি ভাষণ শুরুর চেষ্টা করেন।

এসময় বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে শ্লোগান দিতে থাকেন। তারা টেবিল চাপড়ে ও চিৎকার করে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। বিক্ষোভকালে মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

প্রায় চার মিনিট অচলাবস্থার পর রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। এর মধ্যেও বিরোধী দলের বিক্ষোভ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে শ্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যান বিরোধী দলীয় সদস্যরা। পরে রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারণ ভাষণ শেষ করেন এবং স্পিকার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।