রুশ তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ অনুমতি (ওয়েভার) চাইল বাংলাদেশ

আলোকিতপ্রজন্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ | ৪৮

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের সংকট নিরসনে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি (ওয়েভার) চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের মতো বাংলাদেশকেও একই ধরনের সুযোগ দিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসেনের কাছে অনুরোধ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে একটি অস্থায়ী ওয়েভার দিয়েছে। বাংলাদেশও একই ধরনের সুযোগ পাওয়ার আশা করছে। আমরা বলেছি—বাংলাদেশকেও যদি এমন সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে তা আমাদের অর্থনীতির জন্য বড় সহায়ক হবে। বিষয়টি তারা ওয়াশিংটনে পাঠাবে বলে জানিয়েছে। এখন দেখা যাক কী করে।’

বৈঠকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান আমীর খসরু। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং নিয়েও কথা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এ বৈঠকে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের বিষয়। এ নিয়ে এখনই আমাদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশের স্বার্থে বিষয়টিকে কীভাবে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই আমরা বিবেচনা করছি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নেবে—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুদ্ধ যদি স্বল্পমেয়াদি হয়, মধ্যমেয়াদি হয় কিংবা দীর্ঘস্থায়ী হয়—প্রতিটি পরিস্থিতি মাথায় রেখে আমরা পরিকল্পনা করছি। আজকের বৈঠকেও এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’